উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম বৃহৎ জনগোষ্ঠী হল কোচ রাজবংশী বা কামতাপুরী। এই জনগোষ্ঠী শুধুমাত্র ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ,আসাম বা বিহারেই বসবাস করে না , প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের উত্তরের জেলাগুলিতে, পূর্ব নেপালের চারটি জেলায় , ভুটানের দক্ষিণ অংশে কোচ রাজবংশীদের আধিক্য দেখা যায়।
কোচ রাজবংশী বা কামতাপুরী জনগোষ্ঠীর জীবন ধারণের স্বকীয়তা বহু প্রাচীন কাল থেকে এই আধুনিক যুগেও বিরাজমান। খাদ্যাভাস থেকে সংস্কৃতিক জগত অন্যান্য জনগোষ্ঠীর সাথে এদের স্বকীয়তার বিভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়। ভাষা ,শিল্প ইতিহাস, ভৌগোলিক অবস্থান যুগে যুগে এই জন গোষ্ঠীকে উত্তর-পূর্ব ভারতে বসতি স্থাপন করা অন্যান্য জনগোষ্ঠী থেকে কিছুটা হলেও আলদা বৈশিষ্ট্য ধারণ করে।
প্রাচীন কাল থেকে ভৌগোলিকগতভাবে এদের বাসস্থান প্রাক জ্যোতিষপুর, কামতাপুর ,কামরূপ, কোচবিহার এবং বর্তমানে এর কিছুটা অংশ উত্তরবঙ্গ নাম ধারণ করেছে সময়ের বিবর্তনে। গত শতকের নব্বইয়ের দশক থেকেই এই জনগোষ্ঠীর এক বৃহৎ অংশ এদের ঐতিহাসিক,রাজনৈতিক,ভাষাগত ,অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক দাবিকে প্রতিষ্ঠা করতে আন্দোলন মুখী হয় যদিও নব্বইয়ের দশক থেকে আজ অবধি তাদের যে আন্দোলন তা বাস্তব রূপ পায়নি ঠিকই তবুও তাদের মধ্যে অনেক সংগঠন ও ব্যক্তি বিশেষ এখনো ভাষা ঐতিহ্য ও অধিকার রক্ষায় আন্দোলন করে যাচ্ছে। যাইহোক এই জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন দিক ধারাবাহিকভাবে আমরা তুলে ধরব আমাদের প্রচ্ছদে ।
প্রথম প্রচ্ছদে আমরা এই জনগোষ্ঠীর বিবাহের সামগ্রীর নাম গুলো তুলে ধরলাম। কোচ রাজবংশী বা কামতাপুরী জনগোষ্ঠীর লোকেরা বিভিন্ন বৈবাহিক সামগ্রী ব্যবহার করে। এদের প্রধান বৈবাহিক সামগ্রী হল দোই-চিরারভর, জননী ভর, পাগড়ী , বীছন, ঢোনা, লাখোল ভার, মন্ডপ, নন্দী মুখ গোবরকারি, ঘটি, তেলের তারি, চালান বাতি, চাউল ধনী, ধান , দূর্বা ঘাস, টোপর সহ ইত্যাদি।
যদিও পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গে বসবাসকারী বাঙ্গালীদের বিয়ের কৌশলের সাথে এদের বিবাহের দেওয়ার কৌশল এর সাথে কিছুটা হলেও মিলে যাচ্ছে সময়ের বিবর্তনে। ভৌগলিকগত কারণে অনেক জায়গায় বিয়ের সামগ্রীর নামের বিভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়।