নিজস্ব সংবাদদাতা,রাজগঞ্জ:দীর্ঘ প্রায় আট মাস ধরে বন্ধ রাজগঞ্জ ব্লকের সন্ন্যাসীকাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের বাইন গছের নির্মলা টি এস্টেট। এর ফলে চরম দুর্দশায় পড়েছিলেন বাগানের ৩০ জন শ্রমিক। শনিবার বাধ্য হয়ে বাগানের শ্রমিকরা নিজেরাই বাগানের পাতা তুলে বিক্রি করে দিলেন। এমন ঘটনায় চাঞ্চল্যও ছড়িয়েছে এলাকায়। 

   পাতা তুলার মত কঠিন সিদ্ধান্তে আসতে হলো কেন এই প্রশ্নে চা বাগানের শ্রমিক মোহাম্মদ সামাদ বলেন, দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। কোন উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়ে পাতা তুলতে বাধ্য হয়েছি। পাতা বিক্রি করে তাদের হাজিরা ২০০ টাকা নিয়ে বাড়তি টাকা আমরা ম্যানেজারের কাছে রেখে দিব। তিনি বলেন বাগানটি বিক্রি হওয়ার পরেই এই সমস্যা। আগে তাদের পিএফ ছিল নতুন মালিক পিএফ দিচ্ছেন না। দুবছর থেকে পুজোর বোনাস দেননি। কিন্তু বাগান কেনার সময় বলেছিলেন এ সমস্ত কিছুই তিনি দিবেন।


নির্মলা টি এস্টেটের মহিলা শ্রমিক জমিলা খাতুন ও ফাতেমা খাতুন বলেন, বেশ কয়েক মাস ধরে বাগান বন্ধ। কাজ না পেয়ে দুই বেলা খাবার জুটতো না তাদের। বাগান খোলার জন্য অনেকবার মালিককে বলেছেন তারা। কিন্তু বাগান কর্তৃপক্ষ বাগান খোলার বিষয়টিতে কর্ণপাত করেনি। বাধ্য হয়ে এদিন পাতা তুলতে আসতে হয়েছে।পাতা তুলো প্রসঙ্গে বাগানের ম্যানেজার তহমিদার রহমান বলেন, কে বা কারা পাতা তোলার আদেশ দিয়েছে আমি জানি না। শ্রমিকরা পাতা তুলছে তিনি এটা সকালে এসে দেখতে পেলেন। মালিক কোন রকম যোগাযোগ করেননি বিষয়টি মালিকও জানেন।

অন্যদিকে মালিকপক্ষের অভিযোগ শ্রমিকরা নিয়মমাফিক কাজ করেন না। ফলে প্রতিবছর বাগানে সাত থেকে আট লাখ টাকা লোকসান হয়। বাগানের অন্যতম মালিক ইউসুফ আলী প্রধান বলেন, ওখানে বাগান চালানো আমার পক্ষে সম্ভব নয়। ওই বাগানটি বিক্রি করে দেব ইতিমধ্যেই বায়নাও নেওয়া হয়ে গেছে। পাতা তোলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন আমি আইনানুগ ব্যবস্থা নিব।পুলিশ প্রশাসন কে বলা হয়েছে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারণ এই বাগান লোকসান করে আর চালাতে পারবো না,তাই আট মাস আগেই সরকারি নিয়ম নীতি মেনেই মাছ ধরে এই চা বাগান বন্ধ আছে। 
আর বন্ধ চা বাগানে শ্রমিকদের পাতা তোলা নিয়ে চাঞ্চলও ছড়ায় এলাকায়।